মনিরামপুরের রাজনীতি ও সমাজজীবনে এমন কিছু মুখ আছে, যাদের নাম উচ্চারণ করলেই সাধারণ মানুষের মনে ভরসার আলো জ্বলে ওঠে। তাদেরই একজন ইফতেখার সেলিম অগ্নি- এক নেতা, যিনি নিজের চারপাশে গড়ে তুলেছেন ভালোবাসা, বিশ্বাস আর মানবতার এক উজ্জ্বল বলয়।
শিক্ষা জীবন: সততা ও নেতৃত্বের বীজ
ইফতেখার সেলিম অগ্নি মনিরামপুর উপজেলার ঢাকুরিয়া ইউনিয়নের বলিয়ানপুর গ্রামের সন্তান।
তিনি ভাষাসৈনিক প্রয়াত নুরুল হকের ছোট ছেলে।
১৯৮৮ সালে এসএসসি পাস করে ভর্তি হন যশোর এমএম কলেজে একাদশ শ্রেণীতে। শিক্ষাজীবনের শুরু থেকেই তিনি ছিলেন নিষ্ঠাবান, ন্যায়পরায়ণ ও নেতৃত্বগুণসম্পন্ন। সহপাঠীদের মধ্যে তাঁর সততা ও দায়িত্ববোধ তাঁকে দ্রুত সবার প্রিয় করে তোলে। পড়াশোনার পাশাপাশি তিনি সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তনের স্বপ্ন নিয়ে এগিয়ে যান—যেখান থেকে ধীরে ধীরে রাজনীতির পথে তাঁর যাত্রা শুরু হয়।
ছাত্র রাজনীতিতে উদ্যমী সূচনা
এমএম কলেজে পড়াকালেই তিনি যুক্ত হন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের (ছাত্রদল) রাজনীতির সঙ্গে।
প্রথমে নির্বাচিত হন ছাত্রদল এমএম কলেজ শাখার প্রচার সম্পাদক। পরের বছর, ১৯৯০ সালে, তিনি সংগঠনের সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত হন।
সে সময় ছিল স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের উত্তাল দিনগুলো। অগ্নি সক্রিয়ভাবে অংশ নেন সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্যের আন্দোলনে, যেখানে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। ছাত্রজীবনের সেই সাহসী অংশগ্রহণই তাঁর রাজনৈতিক জীবনের ভিত্তি গড়ে দেয়।
দরজা খোলা এক মানুষের গল্প
ইফতেখার সেলিম অগ্নির বাড়িতে ঢুকতে কারও অনুমতি লাগে না। দরজায় নেই কোনো প্রহরা, নেই কোনো দূরত্বের দেয়াল। রিকশাচালক, কৃষক, শ্রমজীবী কিংবা গৃহিণী—যে কেউ নিজের প্রয়োজনে তাঁর কাছে পৌঁছে যান অনায়াসে। তিনি শোনেন, বোঝেন, এবং যতদূর সম্ভব সঙ্গে সঙ্গেই সমাধানের পথ খোঁজেন।
তাঁর নিত্যদিনের অভ্যাস যেন “মানুষের পাশে থাকা”—
চাই সেটা অসুস্থ কারও চিকিৎসা সহযোগিতা হোক, শিক্ষার্থীর পড়ালেখার সহায়তা, কিংবা কোনো গরিব পরিবারের বিপদের সময়ে আশ্রয় দেওয়া।
তাঁর বাড়ির খাবার টেবিল সারাবছর খোলা থাকে অসহায় ও প্রয়োজনে থাকা মানুষের জন্য।
রাজনীতি তাঁর কাছে দায়িত্ব, নয় সুবিধা
রাজনীতিকে তিনি দেখেন “জনসেবার মঞ্চ” হিসেবে।
দলীয় পরিচয় তাঁর আছে, তবে মানুষই তাঁর আসল শক্তি। মনিরামপুরে যখনই কারও দরজায় বিপদ এসে কড়া নাড়ে, ইফতেখার সেলিম অগ্নি সেখানে ছুটে যান নিজের মতো করে। নিরহংকার ও সহজ যোগাযোগসুলভ এই মানুষটির নেতৃত্বের মূল ভিত্তি—ভালোবাসা ও বিশ্বাস।
মানুষ ও সমাজ-উন্নয়নের কল্যাণই তাঁর রাজনীতি
ইফতেখার সেলিম অগ্নির সঙ্গে একবার কথা বললেই বোঝা যায়, তিনি রাজনীতিকের চেয়ে অনেক বেশি এক মানবিক মানুষ। তাঁর চোখে ঝলমল করে দায়িত্ববোধের আলো, কথায় ঝরে পড়ে আন্তরিকতার উষ্ণতা। ব্যক্তিজীবনে তিনি একজন স্নেহময় বাবা, প্রিয় ভাই, সমাজসেবক ও ত্যাগী কর্মী। রাজনীতিতে তাঁর এই মানবিক চেহারাই তাঁকে করে তুলেছে মনিরামপুরবাসীর প্রিয় মুখ।
কৃষি, উদ্যোক্তা ও কর্মসংস্থান
মনিরামপুরে একটি বড় কেঁচোসার উৎপাদনের খামার গড়ে তুলেছেন- পরিবেশ ও কৃষিকাজের সঙ্গে যুক্ত উদ্যোগ। এছাড়া ভার্মি কম্পোস্ট সার উৎপাদন ও কাজুবাদাম চাষের মতো উদ্যোগেও অংশগ্রহণ করছেন, ভিডিও চিত্র নিচে তুলে ধরা হলো।
আগামী দিনের প্রত্যাশা
আজ ৮৯ যশোর-০৫ মনিরামপুর আসনে ধানের শীষের মনোনয়ন প্রত্যাশী এই মানুষটির প্রতি সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা একটাই—
যেন তিনি সুযোগ পান তাঁর প্রিয় এলাকাটিকে আরও এগিয়ে নেওয়ার, মানুষের জীবনে আলোর দিশা ছড়ানোর।
মনিরামপুরের পথে পথে তাই একটাই কথা—
“জাতীয়তাবাদী আদর্শে বিশ্বাসী এক নেতৃত্ব—যার রাজনীতি মানুষের জন্য, মানুষের কল্যাণে।”
ডেইলি কলমকথার সকল নিউজ সবার আগে পেতে গুগল নিউজ ফিড ফলো করুন
দৈনিক কলম কথা সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।